গ্রাম গঞ্জের সব সময়ে বিশেষ করে বর্ষাকালে একটা বড় সমস্যা হলো সাপের কামড়! মনে রাখবেন বাংলাদেশে বেশির ভাগ সাপই বিষহীন!!
১) অনেকের ধারণা সাপকে কিছুটা আঘাত করে চলে গেলে সাপ লোকটাকে চেনে রাখে এবং রাতে সাপ ওই আঘাতকারী লোকের বাড়িতে গিয়ে দংশন করে। মূলত সাপের স্মৃতি শক্তি খুবই কম এবং ঘরে গিয়ে দংশন করার প্রশ্নই আসে না।
২) কোথায়ও সাপকে দেখলে তাকে চলে যেতে সুযোগ দিন, ইনশাল্লাহ্ কোন সমস্যা হবে না।
৩) ঘরে সাপ থাকার সম্ভাবনা থাকলে বিশেষ করে ইদুরের গর্ত থাকলে শুকনা মরিচ আগুনে পোড়া দিন। তাছাড়া বাজারে কার্বোলিক এসিড আছে, এগুলি বাড়িতে এনে বোতলসহ ঘরের মধ্যে রাখুন, সাপ অটোমেটিক্যালি চলে যাবে।
৪) কাউকে সাপে দংশন করলে ওঝার কাছে না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে যান। ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে সাপের এন্টিভ্যানম ইনজেকশন দিন।
ইনশাআল্লাহ সুস্থ্য হবেন নিশ্চিত। মনে রাখতে হবে, ওঝা নয় সচেতনতাই পারে অনেকের জীবন বাঁচাতে।
৫) যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাপে কামড় দেয়া স্থানের কিছু উপরে এবং নিচে শক্ত করে বেঁধে দিন, এমন করলে সে জায়গায় রক্ত সঞ্চালন কম হবে। ফলে রক্তের মাধ্যমে শরীরে বিষ ছড়ানোর সম্ভাবনাও কম হবে।
৬) কামড় দেয়া স্থানটি যত দূর সম্ভব নড়াচড়া না করাবার চেষ্টা করুন। সঞ্চালন যত কম হবে, বিষ ততই কম ছড়াবে।
৭) মনে রাখবেন, সাপে দংশন করার পর ৭/৮ ঘন্টা পর্যন্ত রোগী বেঁচে থাকে, তাই ধৈর্য্য ধারণ করে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে ইনজেকশনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন সাপে কামড় দিয়েছে সেটার পরিচয় জানা গেলে চিকিৎসায় কিছুটা সুবিধা হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন বেশী সময় নষ্ট না হয়।
৮) বাংলাদেশের বিষাক্ত প্রায় সকল সাপের বিষ নষ্ট করার ইনজেকশন আবিস্কার হয়েছে। শুধুমাত্র রাসেল ভাইপার বা শংখচুড় সাপের টিকা আবিস্কারের চেষ্টা চলছে। আর এই সাপ বাংলাদেশের রাজশাহী ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না।
৯) দংশিত ব্যাক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সাহস দেয়া। সাপে কামড়ে মানুষ অনেক সময় আতঙ্কে মারা যান! কাউকে সাপে কামড় দিলে তাকে আশস্ত করতে হবে, আতঙ্ক মুক্ত করার চেষ্টা করতে হবে! আক্রান্ত মানুষটিকে বেশি আতঙ্কিত হতে দেবেন না। এতে শরীরে অন্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। হ্যার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। এমনকি ডায়াবেটিক রোগীদের ব্লাড লেভেল বেড়ে যেতে পারে!
আমার এ পোস্টটি যে কোনভাবে কপি পেস্ট কিংবা প্রয়োজনে সংযোজিত-বিয়োজিত করে শেয়ার করুন। মানুষদের জানিয়ে দিন। হতে পারে এভাবেই একটি মানুষ সচেতন হবে, এমনকি অাপনার একটা শেয়ারের জন্য কেউ বেঁচেও যেতে পারে।